পাহাড়ের ডাক অগ্রাহ্য করার জো নেই। তাই এবার ডাক আসতেই ঘুরে এলাম বান্দরবানের মিরিঞ্জা ও চিম্বুক রেঞ্জ থেকে। খুব কাছ থেকে দেখে এলাম পাহাড়ের রূপরহস্য ও এখানকার আদিবাসীদের জীবনযাত্রা।
সপ্তাহখানেকের জন্য যাবতীয় খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ, রান্নার জিনিসপত্র, তাবু ও আনুষঙ্গিক সবকিছু ব্যাকপ্যাকে পুরে বেরিয়ে পড়লাম। বেঁচে থাকার সব উপকরণ সঙ্গে না থাকলে খুব বিপদ হবে। কারণ, এবার অধিকাংশ সময়ই থাকতে হবে এমন এলাকায়, যেখানে মনুষ্যচিহ্ন হয়তো একেবারেই নেই।তথ্য পাওয়ার একমাত্র বিশ্বস্ত মাধ্যম জিপিএস। কেননা পথের পুরোটা পাহাড়িদেরও অচেনা।
এমন খরস্রোতা খাল পাড়ি দিতে হয়েছে একটু পরপর
প্রথম দিন আলীকদমের মাতামুহুরী খাল হয়ে দুস্রি বাজারে পৌঁছলাম ইঞ্জিনচালিত নৌকায়। কিছুদিন আগে আগুন লেগে পুরো বাজারটাই পুড়ে ছারখার। কোনোমতে একটা দোকান বেঁচে গেছে। ট্রেকিং শুরুর আগে সেখানে বসেই খানিকটা জিরিয়ে নিলাম।এদিন পরিশ্রম বলতে কিছুই ছিল না। তখন বেশ ক্লান্ত লাগলেও বাকি দিনগুলোর সঙ্গে এখন তুলনা করছি বলে এমন মনে হচ্ছে। জংলা পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে বেশ গহিনে ঢুকে গেছি ততক্ষণে। বিকেল গড়িয়ে আসতে এক ঝরনার পাশে ক্যাম্পিং করার বেশ ভালো একটা জায়গা দেখে সেদিনের মতো তাঁবু ফেলা হলো সেখানে। পাশেই এক আদিবাসী পাড়ায় চতুর্থবারের মতো অনুরোধ করে মুরগি পাওয়া গেল। বলে রাখা ভালো, তাদের কাছে মুরগির একটা ডিম আমাদের শহুরে মানুষদের বুফে খাওয়ার সমান!
পরদিন সকাল৬০-৭৫ ডিগ্রি খাড়া পাহাড় বাইতে শুরু করলাম। ট্রেক শুরুর প্রথম ২০-২৫ মিনিট সবারই বেশ হয়রান লাগে, এরপর শরীর সয়ে যায়। আর তা যদি হয় এমন দুর্গম পাহাড় দিয়ে, তাহলে তো বেশ পরীক্ষাই নিয়ে নেয়। বাড়তি হিসেবে পিঠে ১২-১৩ কেজি ওজনের ঝোলা।
