EPISODE :01

5 0 0
                                        

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

📖 অদ্ভুত নীরবতা

Written by: Nafiza Khan Ariana

সিলেট শহরের ভোরগুলো অন্যরকম।

ফজরের আজান শেষ হওয়ার পর শহরটা যেন ধীরে ধীরে ঘুম ভাঙতে শুরু করে। চারদিকে হালকা কুয়াশা, গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির আর ঠান্ডা বাতাস মিলে এক শান্ত পরিবেশ তৈরি করে।

এই শান্ত শহরেরই এক অভিজাত এলাকায় অবস্থিত চৌধুরী বাড়ি।

বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন নাসরিন চৌধুরী। হাতে এক কাপ চা। প্রতিদিনের মতো আজও তিনি নিজের একমাত্র মেয়ের ঘরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।

কারণ তিনি জানেন, আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘুম থেকে উঠে যাবে তার পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা।

আয়রা রহমান চৌধুরী।

চৌধুরী পরিবারের একমাত্র সন্তান।

বয়স একুশ।

সিলেটের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

ফর্সা গায়ের রং, কোমর পর্যন্ত ঘন কালো চুল, তীক্ষ্ণ কালো হরিণ চোখ, শান্ত ব্যক্তিত্ব আর ভদ্র ব্যবহার-এই সবকিছু মিলিয়ে আয়রাকে সবাই খুব পছন্দ করে।

কিন্তু আয়রার সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল তার চরিত্র।

অনেক ধনী পরিবারের ছেলে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, অনেকেই বন্ধুত্ব করতে চেয়েছে, কিন্তু সে সবসময় একটা কথাই বলেছে-

"আমার এখনো অনেক স্বপ্ন বাকি।"

তার পৃথিবী খুব ছোট।

মা।

বাবা।

পড়াশোনা।

আর নিজের ভবিষ্যৎ।

সকাল ছয়টা বাজতেই আয়রার ঘুম ভাঙল।

ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে বসল সে।

মোবাইল হাতে নেওয়ার আগেই প্রথম কাজ হিসেবে জানালার পর্দা সরিয়ে দিল।

সামনের আকাশটা দেখে তার মুখে ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল।

আরেকটা নতুন দিন।

আরেকটা নতুন সুযোগ।

ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে নিচে নেমে এলো সে।

ডাইনিং টেবিলে ইতিমধ্যে বসে আছেন তার বাবা সাইফুর রহমান চৌধুরী।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক।

সৎ, শিক্ষিত এবং আত্মমর্যাদাবান একজন মানুষ।

আয়রাকে দেখেই তিনি হাসলেন।

"গুড মর্নিং রাজকন্যা।"

আয়রা হেসে বাবার পাশে বসে বলল,

"গুড মর্নিং বাবা।"

নাসরিন চৌধুরী রান্নাঘর থেকে বের হয়ে বললেন,

"আজ কিন্তু নাস্তা শেষ না করে কোথাও যাওয়া যাবে না।"

"মা, আমি কি কখনো না খেয়ে যাই?"

"হ্যাঁ, পরীক্ষার সময়।"

"ওটা আলাদা ব্যাপার।"

মেয়ের কথা শুনে দুজনেই হেসে উঠলেন।

এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ছিল আয়রার সবচেয়ে বড় সুখ।

নাস্তা শেষ করে সকাল আটটার দিকে নিজের রুমে গিয়ে বই নিয়ে বসল সে।

প্রতিদিনের মতো আজও সে ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার আগে এক ঘণ্টা পড়াশোনা করবে।

কারণ তার একটা স্বপ্ন আছে।

অনেক বড় স্বপ্ন।

একদিন সফল ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন।

আর সেই স্বপ্ন পূরণ করে বাবার মুখে গর্বের হাসি দেখার স্বপ্ন।

কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে আয়রা জানে না-

তার জীবনে খুব শীঘ্রই এমন একজন মানুষের আগমন হতে যাচ্ছে, যে তার শান্ত জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে।

একজন মানুষ...

যার নাম শুনলে অনেকেই ভয় পায়।

যে মানুষটা দিনের আলোয় একজন সফল ব্যবসায়ী।

আর রাতের অন্ধকারে...

একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের রাজা।

চলবে...

Romantic Histórias para pegar e não largar. Descubra agora